বেঙ্গালুরু, ২৪ অক্টোবর: কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কথিত ‘স্টিং অপারেশন’-এর পিছনে কংগ্রেসেরই কিছু লোকের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করলেন তাঁর ছেলে তথা রাজ্যের নগরোন্নয়নমন্ত্রী যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া। শুক্রবার মাইসুরুতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাবাকে কলঙ্কিত করা, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুনাম ধ্বংস করা এবং তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

যতীন্দ্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভিডিয়োয় কংগ্রেসের এক মহিলা কর্মী এবং একটি সংবাদমাধ্যমের প্রধানের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ওই মহিলা পুত্তুর বিধানসভা আসন থেকে দলের টিকিট চেয়েছিলেন বলে ভিডিয়োয় উল্লেখ রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে তাঁর মনে হয়েছে, টিকিট পাওয়ার উদ্দেশ্যের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ থাকতে পারে। তবে এটি তাঁর প্রাথমিক মূল্যায়ন; তদন্তেই প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে।

একই সঙ্গে গোটা দলকে কাঠগড়ায় তুলতে চাননি মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই পুরো কংগ্রেস তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। ভিডিয়োয় যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা নিজেরাই পরিকল্পনা করেছিলেন, নাকি অন্য কারও নির্দেশে কাজ করেছেন, তা খুঁজে বার করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে সন্দেহ করছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সিদ্ধারামাইয়াও শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ অসত্য বক্তব্যের সাহায্যে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার পরিকল্পনা হয়েছিল। মাইসুরুর সুত্তুর মঠে সাংবাদিকদের তিনি জানান, মঙ্গলুরুর এক মহিলা এবং এক সাংবাদিকের যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জনসমক্ষে পরিষ্কার করতেই তিনি নিজে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত বক্তব্যের কোনও ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

কারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছেন, সে বিষয়ে অবশ্য তদন্তের ফলের অপেক্ষা করার কথা বলেছেন সিদ্ধারামাইয়া। শাসকদলের কেউ, না বিরোধী শিবিরের কেউ জড়িত, তদন্তের আগে তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে তাঁর বক্তব্য। সরকারের তদন্তে আস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা উচ্চপর্যায়ের পৃথক তদন্তের প্রয়োজন দেখছেন না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কথিত স্টিংটি ২০২৩ সালের। ভিডিয়োটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন সিদ্ধারামাইয়া। তিনি ৬ অক্টোবর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। ভিডিয়োর সম্প্রচার ও প্রচার বন্ধ করতে দেওয়ানি আদালতের নিষেধাজ্ঞাও নিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অসত্য প্রচারের বিস্তার ঠেকানোর জন্যই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

এই ঘটনায় পাওয়ার টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাকেশ শেট্টিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে বেঙ্গালুরু সাইবার অপরাধ দমন পুলিশ। গ্রেফতারের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার আগাম জামিনের আবেদন করেন তিনি। শেট্টির আইনজীবীর বক্তব্য, যে ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিয়োটি আপলোড করা হয়েছিল, তার মালিক, নির্মাতা কিংবা প্রশাসক কোনওটিই শেট্টি নন। অন্য কেউ ওই চ্যানেল তৈরি করেছেন এবং পরিচালনা করেন।

শুক্রবার বেঙ্গালুরুর একটি আদালত শেট্টিকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। তাঁর আগাম জামিনের আবেদনের পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর। আদালত তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের সূত্র উদ্ধৃত করে একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ভিডিয়োর পুরুষকণ্ঠটি নিজের বলে মানতে অস্বীকার করেছেন শেট্টি। অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন; আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

এদিকে কর্নাটক কংগ্রেস সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ জানিয়েছেন, ভিডিয়োয় দেখা যাওয়া দলীয় কর্মীদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের উত্তর পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের তদন্তের উপর আপাতত আস্থা রেখেছেন যতীন্দ্রও। তবে তদন্ত যথাযথ হচ্ছে না বলে মনে হলে অন্য সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি তুলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তদন্তে সত্য প্রকাশ্যে আসবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে।